Thursday, February 27, 2025

ঢাকার প্রাচীনত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন


ঢাকার প্রাচীনত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন: 🌌

ঐতিহ্যগতভাবে, ঢাকা শহরের বয়স ৪০০ বছর বলে মনে করা হত। তবে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব গবেষকদের সাম্প্রতিক আবিষ্কার এই ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে দিয়েছে। তাদের গবেষণা অনুসারে, ঢাকা শহরের গোড়াপত্তন খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম থেকে দ্বিতীয় শতাব্দীর মধ্যে হয়েছিল। এর অর্থ, যিশুখ্রিষ্টের জন্মের বহু আগে থেকেই এই নগরীতে মানববসতি ছিল, যা প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের ঘটনা।

পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে  প্রত্নতাত্ত্বিক খনন: 🏚️⛏️
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল ২০১৭-১৮ সালে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ চালায়। এই খননকাজে শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছিল। তারা কারাগারের প্রধান ফটকের সম্মুখভাগ, রজনীগন্ধা ভবনের আঙিনা, কারা হাসপাতালের সম্মুখভাগ, দশ সেল এবং যমুনা ভবনের পশ্চিমাংশ- এই পাঁচটি স্থানে মোট ১১টি খননকাজ পরিচালনা করে।

আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন: ⚙️
এই খননকাজের ⛏️ ফলে, একটি প্রাচীন দুর্গের  দেয়াল, কক্ষ, নর্দমা এবং কূপের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়াও, গবেষকরা কড়ি, মুঘল আমলের ধাতব মুদ্রা, বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্র এবং পোড়ামাটির ভাস্কর্যের মতো বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কার করেন।

গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের তাৎপর্য: 🔍
এই আবিষ্কারগুলো ঢাকার ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায় উন্মোচন করে। এটি প্রমাণ করে যে, ঢাকা শহর শুধু মুঘল আমলের রাজধানী ছিল না, বরং এর ইতিহাস আরও প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ। এই গবেষণার মাধ্যমে ঢাকার প্রাচীনত্ব এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
🏚️

Monday, February 24, 2025

ঢাকার মগবাজার ইতিহাস

 


ঢাকার অজানা ইতিহাস:


দেড় হাজার বছর আগে ছিল এক প্রহরা চৌকি। স্থানীয়রা তাকে বলত ঢক্কা। ধীরে ধীরে গড়ে উঠল 'বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির' এক শহর। মোগল সুবেদার ইসলাম খাঁ ১৬১২ সালে সেই শহরকেই করলেন তার রাজধানী। সেই থেকে যাত্রা হল রাজধানী নগরী ঢাকার। কিন্তু নগরী হিসেবে ঢাকার ইতিহাস আরো পুরানো। এরপর কত ভাঙ্গা গড়া, কত হাসি কান্নার ইতিহাস।


মগদের বসতি ছিল মগবাজারে:

শ'খানেক বছর আগেও মগবাজার ছিল ঢাকা শহর থেকে 'দুই মাইল উত্তর-পূর্ব দিকে'। ১৩১৯ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত যতীন্দ্রমোহন রায়ের ঢাকার ইতিহাস বইতে মগবাজারের বিবরণ দিতে গিয়ে একথাই বলা হয়েছে। মগবাজার নামকরণ


বইতে বলা হয়েছে, 'সুবাদার ইসলাম খাঁ মোগল শাসন সময়ে আরাকান রাজের মৃত্যু হইলে তাঁহার জনৈক কর্মচারীর পুত্র তদীয় সিংহাসন হস্তগত করিতে সমর্থ হয়। এই ঘটনায় আরাকান রাজার ভ্রাতা উনবিংশতি হস্তী, চারি-পাঁচ সহস্র অনুচর ও তদীয় পরিবারবর্গসহ ভুলুয়ার ফৌজদারের শরণাপন্ন হইলে তিনি উহাকে স্থলপথে ঢাকা প্রেরণ করেন।


ইসলাম খাঁ তাহাদের সাদরে গ্রহণ করেন।... মগদিগের বসবাস হেতু এই স্থান মগবাজার আখ্যা প্রাপ্ত হইয়াছে।' নাজির হোসেনের 'কিংবদন্তির ঢাকা' বইতেও একই ধরনের বিবরণ পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন, ১৬৩৫-৩৯ সালে চট্টগ্রামে আরাকান রাজের মগ গভর্নর ছিলেন মুকুট রায়। ইনি ছিলেন আরাকান রাজার ভাইপো। মুকুট রায় এই সময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পরিবার-পরিজন ও অনুগতদের নিয়ে সুবেদার ইসলাম খাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারী মগদের এই দলটিকে ঢাকা শহরের কাছে বসতি স্থাপন করতে দেয়া হয়। এ কারণেই জায়গাটির নাম হয় মগবাজার। তবে এই ধারণা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। এ বিষয়ে তিনি নির্মল গুপ্তের মতকেই অধিক বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন। নির্মল গুপ্তের মতে, সুবাদার ইসলাম খাঁ'র সময় নয়, মগরা এখানে এসে আশ্রয় নেয় ব্রিটিশ আমলে। তিনি লিখেছেন, উনবিংশ শতকে আরাকান থেকে অনেক মগ ব্রিটিশ সরকারের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে কিং ব্রিং নামে এক মগ সর্দার জনা পঞ্চাশেক লোক নিয়ে এসে ঢাকা শহরের কাছে এক জঙ্গলাকীর্ণ স্থানে বসবাস শুরু করেন এবং সেই থেকেই এলাকাটির নাম হয় মগবাজার।


পশ্চিমে ইস্কাটন, দক্ষিণে রমনা, উত্তরে তেজগাঁও এবং পূর্ব দিকে সিদ্ধেশ্বরী-মালিবাগ এলাকা। বলতে গেলে নগরীর কেন্দ্রস্থলে এর অবস্থান। কিন্তু একশ'-সোয়াশ' বছর আগেও মগবাজার ছিল ঢাকা শহরের বাইরে শুধু তাই নয়, এলাকাটি ছিল ঘোর জঙ্গলাকীর্ণ। বাঘ, হাতি, অজগরের মতো বন্যপ্রাণী বিচরণ করত এখানে।


১৮৬৫ সালে এখানে কয়েকজন অল্পবয়স্ক লোক একসঙ্গে একটি বাঘিনীকে তাড়িয়ে দিয়ে তার তিনটি বাচ্চাকে ধরে এনেছিল বলে স্থানীয় পত্রিকায় খবর ছাপা হয়েছিল।


নাজির হোসেন তার বইয়ে মগবাজারের নাম এক সময় মগরাপাড়া ছিল বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, পাঠান আমলে এই স্থানে একটি বিশ্রামাগার ও নহবৎখানা নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রতিদিন ভোর বেলা ও সন্ধ্যার সময় নহবৎখানায় বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রসহকারে বাঁশী বাজানো হত। পথশ্রান্ত পথিক এবং পীর-ফকিরগণ এখানে বিশ্রাম নিতে পারতেন। সে আমলে এখানে একটি মসজিদ এবং তার কাছে তহবিল নামে একটি অট্টালিকা নির্মাণ করা হয়। মসজিদে যারা নামাজ পড়তে আসতেন, তহবিল নামের ভবনটিতে তাদের আপ্যায়ন করা হত। চিত্তবিনোদনেরও নানা। ব্যবস্থা ছিল এখানে।


Monday, December 30, 2024

 





ডাকাতদের মাথা কেটে ঝুলিয়ে রাখা হতো ঢাকার পাগলা সেতুতে  প্রখ্যাত শিল্পী চার্লস ড’য়লি বাংলাদেশে আসেন ১৮০৮ সালে। তিলোত্তমা ঢাকার প্রেমে পড়ে থেকে যান প্রায় ৯ বছর। তার হাতে ক্যামেরা ছিল না, পেন্সিল আর কাগজই তখন ভরসা। তা দিয়ে তিনি এঁকেছেন বুড়িগঙ্গা, ঘর-বাড়ি, নাম না জানা কোন গলি, ভাঙা সেতু অথবা লোকজন। এর মধ্যে তার আঁকা কিছু ছবি বিখ্যাত হয়ে ওঠে। পাগলা সেতু’র চিত্রটি এর মধ্যে অন্যতম। ১৮১৭ সালে চার্লস ড’য়লি পাগলা সেতুর ছবি আঁকেন। সেই সময়ে পাগালা সেতুর অবস্থা ছিল বেশ নাজুক। সেটার ওপর গাড়ি-ঘোড়া কিছুই চলতো না। তবে তখন মানুষজন ব্রিজে বসে আড্ডা দিতো। এছাড়া ব্রিজের নিচ দিয়ে নৌকাও চলতো। তারওপরে এটি ডাকাতদের মাথা কেটে ঝুলিয়ে রাখা স্থান হয়ে ওঠে।  পাগলা সেতুর ইতিহাস বহু আগের। ১৬৬২ সালে এটি নির্মিত হয় এবং ‘পাগলার পুল’ নামে অধিক পরিচিত। জানা যায়, মোগল সুবেদার মীর জুমলা তৎকালীন আরাকানি ও মগদের আক্রমণ ঠেকানো এবং দস্যুদের দমনের জন্য সোনাকান্দা, ইদরাকপুর, হাজিগঞ্জ প্রভৃতি ভাটি অঞ্চলে কয়েকটি জলজ দুর্গ নির্মাণ করেন। ওই দুর্গগুলোর সঙ্গে রাজধানী শহর ঢাকার সংযোগের জন্য পাগালু নামের স্রোতস্বিনী নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। যদিও ওই নদীর এখন কোনো অস্তিত্ব নেই।  তিনটি মজবুত ও সুঁচালু খিলান সহযোগে নির্মিত হয়েছিল পাগলা সেতু। খিলানের স্প্যান্ড্রেলে সুদৃশ্য গোলাপ ফুলের প্লাস্টার নকশা দেয়া ছিল। পুলটির চার কোনায় ছিল চারটি অষ্টকোনাকৃতির ফাঁপা টাওয়ার। টাওয়ারগুলোতে খিলানী দরজা জানালা ছিল। টাওয়েরর উপরে ছিল গম্বুজ। সেতুর নিরাপত্তা প্রহরীরা এসব টাওয়ারে অবস্থান করতেন।  ১৬৬৬ সালে ফরাসী অলংকার ব্যবসায়ী ট্যাভেরনিয়ার লিখেছেন, তিনি ওই পুলের পাশে থাকা উঁচু উঁচু থামে দস্যুদের কাটা মাথা ঝুলিয়ে রাখতে দেখেছিলেন। ঢাকা কেন্দ্রের গবেষক ড. মো. আলমগীর এক প্রবন্ধে লিখেছেন, সেখানে ডাকাতদের খুব উপদ্রব ছিল। প্রায়ই ডাকাতদের মেরে মাথা ঝুলিয়ে রাখা হতো।  পাগলা সেতুর চিহ্ন এখনও আছে। সেতুর পশ্চিম পাশের একটি টাওয়ার এখনো স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আরেকটি নদীর দিকে হেলে পড়ে জীর্ণ অবস্তায় আছে। পূর্বদিকের একটি টাওয়ার এখন মন্দিরের গর্ভগৃহ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেখানে পুরানো একটি পিপুল গাছ রয়েছে। সেতুর খিলানগুলো বহু আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে। ১৯৬০ সালেও সেতুটির অস্তিত্ব ছিল। অযত্ন-অবহেলা, দূষণ-দখলের কবলে পড়ে এটি এখন শুধুই  অতীত স্মৃতি ।

Friday, December 13, 2024

বিজয় দিবস ২০২৪





ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট



১৯৭৬ সালে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট এলাকার দৃশ্য। 
ছবি সংগৃহীত। 

Thursday, November 21, 2024



১৯৭৬ সালে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট এলাকার দৃশ্য। 
ছবি সংগৃহীত।

পাগলার পুল



পাগলা পুল –
একাল আর সেকাল 😢😢

পাগলা সেতু একটি মূঘল আমলে নির্মিত সেতু। এর ধ্বংসাবশেষ রাজধানী ঢাকার ৪.৫ কিমি পূর্বে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কের পাগলা এলাকায় অবস্থিত। সম্ভবত ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার তৎকালীন সুবাদার মীর জুমলা নির্মাণ করেন।

সুবাদার মীর জুমলার আমলে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বেশ কিছু মুঘল স্থাপনা যেমন রাস্তা, সেতু, সংযোগ সড়ক নির্মিত হয়। তিনি রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ (তৎকালীন খিজিরপুর)এর সংযোগকারী রাস্তার পাগলা নামক স্থানে সেতুটি নির্মাণ করেন। ধারণা করা হয় এখানে একসময় পাগলা নদী প্রবাহিত ছিল যার উপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ফরাসী পর্যটক টেভারনিয়ার এর বর্ণনায় পাগলা সেতুটির উল্লেখ পাওয়া যায়। এটিকে তিনি ‘ইটের একটি সুন্দর সেতু’ বলে অভিহিত করেন।

১৮২৪ সালে কলকাতার লর্ড বিশপ হেবার পাগলার সেতুটি দেখতে গিয়েছিলেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি এটিকে স্থাপত্যের একটি চমৎকার নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করেন।

এছাড়াও চার্লস ড’য়লির আঁকা ছবিতে পাগলার সেতুটির ভগ্ন অবস্থার যে চিত্র পাওয়া যায় তাতে সেতুটি যে দৃষ্টিনন্দন ছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

Credit : Shamiya Ali

Thursday, November 14, 2024

রাজমনি সিনেমা হল


 রাজমনি সিনেমা হল:


বাংলাদেশের একটি অধুনালুপ্ত চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহ ------

রাজমনি - সিনেমা হল নামে পরিচিত,ঢাকার অন্যতম প্রেক্ষাগৃহটি কাকরাইলে ভি.আই.পি সড়কের পাশে অবস্থিত। মুক্তিযোদ্ধা আহসানুল্লাহ মনি ১৯৮২ সালে কাকরাইলে চব্বিশ কাঠা জমির উপর রাজমনি প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করেছিলেন। একই মালিকানায় "রাজমনির" পাশে "রাজিয়া" নামে আরেকটি প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করা হয়েছিল। চারশত আসনের "রাজিয়া" প্রেক্ষাগৃহটি "রাজমনি" অপেক্ষা আয়তনে ছোট ছিল। প্রেক্ষাগৃহ ছাড়াও এই ভবনে সঙ্গীত ও শব্দ ধারণ স্টুডিও,চিত্র ধারণের স্থান,ডাবিং স্টুডিও,সম্পাদনা প্যানেল ছিল। চলচ্চিত্র ব্যবসায় মন্দা ও ক্রমাগত লোকসানের কারণে প্রেক্ষাগৃহটি অক্টোবর ২০১৯ - এ বন্ধ করে বাণিজ্যিক ভবনে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হয়।


৩ মার্চ ১৯৮৩ সালে এক হাজার একশত পঞ্চাশ আসনের এই প্রেক্ষাগৃহ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর জন্য উদ্বোধন করা হয়। কামাল আহমেদ পরিচালিত "লালু ভুলু" ছায়াছবি এই প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত প্রথম চলচ্চিত্র। ১৯৮৪ সালে এই প্রেক্ষাগৃহের ভবনে চল্লিশটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ছিল। ফলে এই প্রেক্ষাগৃহকে ঘিরে আশির দশকে কাকরাইল এলাকাটি "ফিল্মপাড়া" নামে পরিচিতি পায়। নব্বই দশকে এই প্রেক্ষাগৃহটি সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করেছে। উদ্বোধনের ছত্রিশ বছর পর ১১ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে রাজমনি ও রাজিয়া প্রেক্ষাগৃহ দুইটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বন্ধ হওয়ার আগে এই প্রেক্ষাগৃহে "নোলক" ছায়াছবি প্রদর্শিত হয়।


সে সময় রাজমনি সিনেমা হলের মালিক এর পক্ষে থেকে বলা হয়েছিল প্রেক্ষাগৃহ ভেঙে এই স্থানে "রাজমনি টাওয়ার" নামে একটি উনিশ হতে বাইশ তলা বহুমুখী বাণিজ্যিক ভবন গড়ে তোলা হবে এবং সেই বাণিজ্যিক ভবনে ভূগর্ভে গাড়ির রাখার ব্যবস্থা,চারতলা পর্যন্ত বিপণিবিতান এবং অবশিষ্ট তলাসমূহে বিভিন্ন দপ্তরের কাছে ভাড়া দেওয়ার মত স্থাপনা তৈরি করা হবে। নতুন করে আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণের পরিকল্পনা রাখা হয়নি।


বাংলাদেশের "ফিল্মপাড়া" বলতে এখনো কাকরাইল এলাকাকে বোঝায়। বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র যাঁরা বানান বা ছবির ব্যবসার সঙ্গে যাঁরা জড়িত,তাঁদের সবার গন্তব্য কাকরাইল। এখানে এই প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে ওঠার পেছনে ছিল প্রেক্ষাগৃহ - রাজমণি।


স্বাধীনতার আগে ঢাকাই ছবির ব্যবসা মূলত ছিল ইসলামপুর,ওয়াইজঘাট ও নবাবপুরকে ঘিরে। একসময় ছবি ব্যবসার যাবতীয় কার্যক্রম চলে আসে গুলিস্তানে। আশির দশকের আগেও ঢাকার "ফিল্মপাড়া" ছিল গুলিস্তান কেন্দ্রিক এর পর তা কাকরাইলে সরে আসে।


বাংলাদেশে সিনেমা ব্যবসায় ধস নামার কারণে ঢাকার অধিকাংশ সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। হাতে গোনা কয়েকটি হল টিকে থাকলেও তা আগামীতে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অনেক স্থানে ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল গুলো ভেঙ্গে ফেলার চিন্তা করছেন মালিকরা।।


কার্টেসি – BFI

Sunday, November 3, 2024


 নীলক্ষেতের রেললাইন এবং ট্রেন- ১ অক্টোবর ১৯৬৪😊


রেললাইনটি শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সীমানা ঘেষে ফুলবাড়িয়া পর্যন্ত যেতো। কিন্তু ১৯৬৮ সালে কমলাপুর ষ্টেশন চালু হবার পর ফুলবাড়িয়া ষ্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ১৯৭১ সালে রেল লাইনও তুলে ফেলা হয়। বলা হয়ে থাকে তখনকার এসএম হল আর জহু হলের ছাত্রদের ট্রেনের হুইসেলে ঘুম ভাংতো।


ছবি ক্রেডিটঃ দুলক আহমেদ

ঐতিহ্যবাহী বিউটি বোর্ডিং

 

ঐতিহ্যবাহী বিউটি বোর্ডিং


পুরান ঢাকার বাংলা বাজার ১নং শ্রীশদাস লেনে অবস্থিত একটি দোতলা পুরাতন বাড়ি যার সাথে বাঙালির শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাস জড়িত এবং বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির গুণী মানুষদের আড্ডার একটি কেন্দ্রস্থল, বুড়িগঙ্গা নদী থেকে বাংলাবাজার, হাজির বিরিয়ানি থেকে চকবাজার- পুরান ঢাকা মানে বাঙালির শত শত বছরের এক কালীক-আখ্যান। পুরান ঢাকার বিউটি বোর্ডিং সেই আখ্যানেরই এক অজর, অক্ষয় কীর্তির নাম। যে বোর্ডিংয়ের আড্ডাগুলো পঞ্চাশ, ষাট, সত্তর, আশির দশকে আমাদেরকে শিল্পের নিগুঢ় চেতনায় সমৃদ্ধ করে গেছে। যেখানে রচিত হয়েছে অজস্র কালজয়ী কবিতা, উপন্যাস, গল্প, চলচ্চিত্র কিংবা অন্যান্য শিল্পকর্ম। কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, গীতিকার, সুরকার, অভিনেতা, সাংবাদিক, রাজনীতিক, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব আর জাদুশিল্পীদের পদচারণায় মুখরিত থাকত সবসময় জায়গাটি।


সাতচল্লিশের দেশভাগের পূর্বে ঢাকার নিঃসন্তান এক জমিদার সুধীর চন্দ্র দাসের জমিদারবাড়ির ভবনে সুনীল কুমার মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় বের হতো 'সোনার বাংলা' নামের সাপ্তাহিক পত্রিকা, সাথে গড়ে ওঠেছিল সেটার ছাপাখানাও। মূলত তখন থেকেই ঐ ভবনটি হয়ে ওঠে শিল্প-সাহিত্যের মানুষদের আনাগোনায় মুখর। কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কবিতাটিও ছাপা হয় সেই পত্রিকায়। দেশভাগের পর 'সোনার বাংলা' কার্যালয় স্থানান্তর হয় কলকাতায়, জমিদার সুধীর চন্দ্র দাসও চলে যান ভারতে। দুই বছর খালি পড়ে থাকে ভবনটি। ১৯৪৯ সালে সেটি ভাড়া নেন মুন্সিগঞ্জের দুই সহোদর নলিনী মোহন সাহা ও প্রহ্লাদ চন্দ্র সাহা।


নলিনী মোহন সাহার বড় মেয়ের নাম ছিল বিউটি। তার নামেই তারা গড়ে তোলেন বিউটি বোর্ডিং, শুরুতে ছোট আকারে ব্যবসা শুরু করেন, একসময় চাহিদা বাড়তে থাকলে বড় করার চিন্তা থেকে জমিসহ ভবনটি কিনে নেন দুই ভাই। ক্রমেই ব্যবসা হয়ে ওঠে জমজমাট। সেই সাথে আবারও শুরু হয় সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের মানুষের বিচরণ।


দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের কেন্দ্র হয়ে ওঠে বাংলাবাজার। সে সূত্রে কবি-সাহিত্যিকদেরও প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়। বাংলাবাজারের পাশেই শ্রীশ দাস লেনের ১ নাম্বার বাড়িটিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে সাহিত্যচক্রের সুনিপুণ এক ঠিকানা।


দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে এই ঐতিহাসিক স্থানে 'সোনার বাংলা' কার্যালয়ে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও পল্লীকবি জসীমউদদীন। 

এখান থেকেই ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয় কবিতাপত্র ‘কবিকণ্ঠ’, আহমদ ছফার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল ‘স্বদেশ’। আরো বেশ কয়েকটি সাহিত্য সাময়িকীও নানা সময়ে প্রকাশিত হয়েছে।


এখানে বসেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলে খ্যাতিমান পরিচালক আব্দুল জব্বার খান। বলা হয়, চিত্রনাট্যের কিছু অংশও এখানে বসে লিখেছিলেন তিনি। সুরকার সমর দাস অনেক বিখ্যাত গানের কথায় সুর বসিয়েছেন এখানেই আড্ডা দেওয়ার ফাঁকেই।

একাত্তরের পঁচিশে মার্চ রাতে বাংলার বুকে এক পাশবিক গণহত্যা শুরু করে পাকিস্তানি হানাদারেরা। তিনদিনের মাথায় ২৮ মার্চ অভিযান চালায় বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক আঁতুড়ঘর বিউটি বোর্ডিংয়েও। ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ১৭ জনকে।


নিহতদের মধ্যে বোর্ডিংয়ের ম্যানেজার ও অন্যান্য কর্মীর পাশাপাশি ছিলেন মালিক প্রহ্লাদ চন্দ্র সাহা স্বয়ং। প্রহ্লাদ চন্দ্র সাহার পরিবার চলে যান ভারতে। রাজাকারদের দখলে থাকায় যুদ্ধের সময় খালিই পড়ে থাকে বোর্ডিংটি।


দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে প্রহ্লাদ চন্দ্র সাহার স্ত্রী প্রতিভা সাহা দুই পুত্র সমর সাহা ও তারক সাহাকে নিয়ে দেশে ফিরে আসেন, আবারও শুরু করেন বোর্ডিং ব্যবসা।


স্বাধীনতার পর থেকে হাল ধরে আসা প্রহ্লাদ সাহার ছেলে তারক সাহা প্রয়াত হলে তার উত্তরসূরী সমর সাহা ও বিজয় সাহা বোর্ডিংটি দেখাশোনা করেন।

কৃতজ্ঞতা @M Kaiser Hussain

Saturday, November 2, 2024

ঐতিহাসিক শায়েস্তা খাঁ জামে মসজিদ।





ঐতিহাসিক শায়েস্তা খাঁ জামে মসজিদ। 

কাটরা পাকুড়তলী,মিটফোর্ড,পুরান ঢাকা। 

নির্মাতা : নবাব শায়েস্তা খাঁ 

স্থাপিত : ১৬৬৪ ইং

পুরান ঢাকার একটি অন্যতম প্রাচীন মসজিদ।

Friday, November 1, 2024

ঢাকার পুরাতন বন্ধ করে দেওয়া প্রথম কেন্দ্রীয় কারাগার, নাজিমউদ্দীন রোড।








 ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, নাজিমউদ্দীন রোড।


পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ছিল ঢাকায় অবস্থতি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কারাগার। এটি পুরনো ঢাকার নাজিমউদ্দীন রোডে অবস্থিত। ঢাকা বিভাগের এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের এখানে দন্ডপ্রদানের জন্য আটক রাখা হত। এছাড়াও ঢাকা শহরের বিভিন্ন থানার মামলায় বিচারাধীন লোকদিগকে, বিচারকালীন সময়ে আটক রাখার স্থান হিসেবেও কারাগারটি ব্যবহৃত হত। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বার এই কারাগারে আটক জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়।


২০১৬ সালের ২৯ জুলাই এ কারাগারটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।


কার্টেসি – ওল্ড ঢাকা বয়েজ

সাত গম্বুজ মসজিদ.

 সাত গম্বুজ মসজিদ...


১৬৮০ সালে মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর আমলে তার পুত্র উমিদ খাঁ।


#মসজিদ


১৬৮০ সালে মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর আমলে তার পুত্র উমিদ খাঁ।




#মসজিদ


Sunday, October 27, 2024

১৯৬৬ঃ ঢাকার পুরাতন রেলক্রসিং সমুহ।

 ১৯৬৬ঃ ঢাকার পুরাতন রেলক্রসিং সমুহ।

১)ময়মনসিংহ রোড ক্রসিং, কাওরান বাজার (বর্তমানে সার্ক ফোয়ারা) ২)  হাতিরপুল ৩) নীলক্ষেত ফুলার রোডের পশ্চিম প্রান্ত ৪) পলাশী ৫) বুয়েট ৬) বক্সী বাজার ৭)চানখারপুল ৮) বঙ্গবাজার ৯) ফুলবাড়িয়া ১০) হাটখোলা

Dhaka City Old Railway line & Rail crossing 


Wednesday, April 24, 2024

ঢাকার ইতিহাসের দুইটি দুর্লভ চিত্রকর্ম যা ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে জোহান জোফানী ঢাকায় বসে আঁকেন

ঢাকার ইতিহাসের এক দুর্লভ চিত্রকর্ম যা ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে জোহান জোফানী ঢাকায় বসে আঁকেন।কোনো ইউরোপীয় শিল্পীর আঁকা ঢাকার সবচেয়ে পুরনো চিত্রকর্ম গুলোর মধ্যে এটি একটি। নাগাপন ঘাট নামে তৈলচিত্র বহু বছর পরিচয়হীন ভাবে বৃটিশ লাইব্রেরীর আর্কাইভে পড়েছিল। কেউই সঠিকভাবে জানতো না ছবিটির সঠিক পরিচয় ইতিহাস। অবশেষে চার্লস গ্ৰেগ নামে এক শিল্পকর্ম-গবেষক এই পেইন্টিংটি কিনে নিয়ে প্রায় ৬ বছর গবেষণা চালিয়ে খুঁজে বের করেন এটি জোহান জোফানীর আঁকা ঢাকার নাগাপন ঘাটের একটি তৈলচিত্র, গ্ৰেগ স্বশরীরে ঢাকায় এসে নাগাপন ঘাট খ্যাত ওয়ারী সিমেট্রি আর তার পূর্বপুরুষের সমাধির এপিটাফ পরিদর্শন করে যান। এটি অবিশ্বাস্য হলেও সত্য  চার্লস গ্ৰেগের পূর্বপুরুষ ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর এক উচ্চপদস্থ মেরিন ক্যাপ্টেন।এখনো যার সমাধি রয়েছে ওয়ারী সিমেট্রিতে।

দ্য সাউথ গেইট অব দ্য লালবাগ...
ঢাকার ইতিহাসের এক দুর্লভ চিত্রকর্ম যা ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে জোহান জোফানী ঢাকায় বসে আঁকেন।কোনো ইউরোপীয় শিল্পীর আঁকা ঢাকার সবচেয়ে পুরনো চিত্রকর্ম গুলোর মধ্যে এটি একটি।দ্য সাউথ গেইট অব দ্য লালবাগ নামে  তৈলচিত্রটি নাগাপান ঘাট  তৈলচিত্র সহ বহু বছর পরিচয়হীন ভাবে বৃটিশ লাইব্রেরীর আর্কাইভে পড়েছিল। কেউই সঠিকভাবে জানতো না ছবিদুটোর সঠিক পরিচয় ইতিহাস। অবশেষে চার্লস গ্ৰেগ নামে এক শিল্পকর্ম-গবেষক এই পেইন্টিং দুটো কিনে নিয়ে প্রায় ৬ বছর গবেষণা চালিয়ে খুঁজে বের করেন এটি জোহান জোফানীর আঁকা ঢাকার লালবাগ কেল্লার ভেতরের দৃশ্য।


Thursday, March 7, 2024

ছবি: রা‌তের খাবা‌রের জন‌্য অ‌পেক্ষমান ঢাকা জেলের বন্দীরা, ১৯০৬ সাল।

ছবি: রা‌তের খাবা‌রের জন‌্য অ‌পেক্ষমান ঢাকা জেলের বন্দীরা, ১৯০৬ সাল। 

বিস্তারিত কাহিনী: এই জেলখানা আগে পরিচিত ছিল 'ঢাকা কেল্লা' নামে। মোগলরা ঢাকায় আসার আগেও এই কেল্লার অস্তিত্ব ছিল। বাংলার মোগল সুবাদার ইসলাম খানের আমলে (ঢাকায় তাঁর শাসনকাল ১৬১০-১৩ সাল) ‘ঢাকা কেল্লা’ ছিল একমাত্র সরকারি দালান। প্রথম দিকে মোগল সুবাদাররা এখানেই থাকতেন, অন্যান্য প্রয়োজনেও এটিকে ব্যবহার করা হতো। যেমন—টাঁকশাল ও বন্দিশালা।
  
পরে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির শাসনামলে ১৭৮৮ সালে কেল্লার ভেতরে একটি ক্রিমিনাল ওয়ার্ড নির্মাণ করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত এই কেল্লাকে কারাগারে রূপান্তর করা হয়। তখন নাম হয় ‘ঢাকা জেল’। তখন সেখানে ১০টি ওয়ার্ড ছিল এবং গড়ে ৫০০ থেকে ৫৫০ জন বন্দি রাখা হতো। প্রথম দিকে একজন বন্দির দৈনিক খাবারের পেছনে দুই পয়সা করে খরচ হতো। ১৭৯০ সালে সেটা বাড়িয়ে এক আনা করা হয়।

১৮৩৯ সালে ঢাকার সিভিল সার্জন জেমস টেলরের এক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ঢাকা জেলার দেওয়ানি ও অপরাধসংক্রান্ত জেলগুলো প্রাচীন দুর্গ (ঢাকা কেল্লা) এলাকায় অবস্থিত। ঢাকা জেলে ১০টি ওয়ার্ড আছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের সামনে আছে খোলা আঙিনা। আর পুরো জেলখানাটি বেশ জায়গা নিয়ে চারদিক থেকে একটি উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। টেলর সাহেব জেলের কয়েদিদের একটি পরিসংখ্যানও দিয়েছেন। সে সময় ঢাকা জেলে দেওয়ানি আদালতে সাজা পাওয়া কয়েদি ছিল ৩০ জন। আর অন্যান্য অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ৮০০ জন। সে সময় তৈরি হয়েছিল জেল হাসপাতাল। সম্ভবত ঢাকা জেলের ভেতরেই ছিল সে‌টি। হাসপাতালটি ছিল ৭০ ফুট লম্বা আর ২৪ ফুট প্রশস্ত একটি দালান।

Dhaka City, Bangladesh 
সংরক্ষিত

Wednesday, August 4, 2021

Map of DACCA from TAYLOR(1840)

Map of DACCA from TAYLOR(1840) A Sketch of the topography and statistics of Dacca 



১৯৪৪ সালে ব্রিটানিয়া টকিজ, পল্টন, ঢাকা।


১৯৪৪ সালে ব্রিটানিয়া টকিজ, পল্টন, ঢাকা। 
 
চল্লিশের দশকের ঢাকা, পৃথিবীজুড়ে তখন চলছে ২য় বিশ্বযুদ্ধ। বার্মা, নাগাল্যাণ্ডে যুদ্ধ পরিচালনার প্রয়োজনে তেঁজগাওতে গড়ে তোলা হয় নতুন বিমান ঘাটি (পরবর্তিকালের তেজগাঁও বিমানবন্দর)। ঢাকার পল্টন ব্যারাকে তখন সমবেত নানা দেশের সৈন্য- মার্কিন ‘জিআই’ সেনা থেকে শুরু করে ব্রিটিশ ‘টমি’ সেনা। কিন্তু তাদের বিনোদনের ব্যবস্থা সেসময় অপ্রতুল। এই সেনাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এক ইংরেজ ভদ্রলোক তখন পল্টনে গড়ে তুললেন নতুন সিনেমা হল- ‘ব্রিটানিয়া টকিজ’।

স্যামসন র‍্যুবেন এর “A Guide for Travellers in India” বইটি থেকে ঢাকার সেসময়কার আরো যে সব সিনেমা হলের নাম জানা যায় সেগুলো হলো- ১. লায়ন সিনেমা, আশেক জমাদার লেন, ২. মুকুল থিয়েটার, জনসন রোড, ৩. রূপমহল, ১৩৬, সদরঘাট, ৪. নিউ পিকচার হাউস, আরমানিটোলা, এবং ৫. তাজমহল টকিজ, আলী নকির দেউড়ী। তবে এসকল হল এ নির্বাক/সবাক ছবির পাশাপাশি নাটক ও নাচগানের ব্যবস্থা থাকলেও ব্রিটানিয়া টকিজে শুরু থেকেই প্রধানত সবাক ইংরেজি ছবিই প্রদর্শিত হত (যে কারণে নাম ‘টকিজ’)। হল এর নামফলকে লেখা ছিল -The Home of English Movies। 

বিশ্বযুদ্ধে শেষে এর নিয়মিত দর্শক হল ঢাকাস্থ ইংরেজ, এংলো-ইণ্ডিয়ান আর উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠী। প্রতিদিন দু’টা মাত্র শো হতো - সন্ধ্যা ৬টায় ও রাত ৯টায়। তবে দর্শক উপস্থিতি কম হলে শো প্রায়ই স্থগিত করা হত। স্থগিত শো এর টিকেট অবশ্য বাতিল হত না, ওটা দিয়ে পরের কোনো এক শো দেখে নেয়া যেত। এখানে প্রদর্শিত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে- Bathing Beauty (1944), A Double Life (1947), Hamlet (1948), Hotel Sahara (1951) ইত্যাদি। ৫০এর দশকে হলটি বন্ধ হয়ে যায়। সে স্থানে গড়ে উঠে বর্তমানের জীবন বীমা কর্পোরেশনের ভবন এবং রমনা ভবন।

কার্টেসীঃ Tareq Aziz 
তথ্য সূত্রঃ Stay Curious Sis

এই ছবিটি পুরাতন ঢাকার কোন জায়গায়, লালবাগ না নবাববাড়ির কাছে কোথাও


এই ছবিটি পুরাতন ঢাকার কোন জায়গায়, লালবাগ না নবাববাড়ির কাছে কোথাও। 
1895-1901, Ceremonial procession in Old Dacca (Dhaka)
Photographer: Fritz Kapp

আড়ুশাহ ও মাড়ুশাহ (রহমাতুল্লাহ) এর মাজার - ওয়ার্ড নং ২১

গতকাল, ফুলার রোড ধরে ব্রিটিশ কাউন্সিল পেরিয়ে যখন জগন্নাথ হলের দিকে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ আমার মনে হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক কোয়ার্টারের ভেত...