Wednesday, April 30, 2025

আড়ুশাহ ও মাড়ুশাহ (রহমাতুল্লাহ) এর মাজার - ওয়ার্ড নং ২১





গতকাল, ফুলার রোড ধরে ব্রিটিশ কাউন্সিল পেরিয়ে যখন জগন্নাথ হলের দিকে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ আমার মনে হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক কোয়ার্টারের ভেতরে দুটি পুরনো কবর রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই আমি ভেতরে প্রবেশ করি।


সেখানে একটি মাটির ঢিবির উপর "আড়ুশাহ ও মাড়ুশাহ (রহমাতুল্লাহ) এর মাজার - ওয়ার্ড নং ২১" শিরোনামে দুটি কবর দেখতে পেলাম। আমার ছোটবেলার স্মৃতি মনে পড়ে, যখন এই মাজার দুটি ঘন জঙ্গলের মাঝে নীরব দাঁড়িয়ে ছিল। আগে এখানে একটি মাটির তৈরি ছোট মসজিদ ছিল, এবং আমাদের এক প্রতিবেশী সেই মসজিদ ও মাজারগুলোর তত্ত্বাবধান করতেন।

পরবর্তীতে, বঙ্গ বিভাগের সময় সরকার এই পুরো এলাকাটি অধিগ্রহণ করে নেয়। শোনা যায়, সেই মসজিদ ও সংলগ্ন জমি জনৈক ব্যক্তি মুতাওয়াল্লী সেজে কিছু অর্থের বিনিময়ে সরকারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। বর্তমানে সেখানে শুধু মাজার দুটিই অবশিষ্ট আছে। এখন সেই স্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশাল ভবন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, যা মুসলিম হলের প্রভোস্টের বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।


মাজার পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য একটি সরু পথ বিদ্যমান। কবর দুটি বেশ ভালোভাবে সংরক্ষিত আছে। তবে, সেখানে সমাহিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি। তবুও, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এই কবরগুলো বহু প্রাচীন। ঢাকার মানুষজন এই স্থানটিকে যথেষ্ট সম্মান করে।


আমি "আসুদেগানে ঢাকা" নামক গ্রন্থে এই কবরগুলোর উল্লেখ খুঁজে পেয়েছি, যা হাকিম হাবিবুর রহমান কর্তৃক রচিত এবং মাওলানা আবুল কাজমী কর্তৃক অনূদিত ও ড. মোমতাজ উদ্দিন আহাম্মদ কর্তৃক সম্পাদিত।


এছাড়াও, কবর দুটির স্মৃতিফলকে নিম্নলিখিত লেখাটি উদ্ধৃত দেখলাম:

আড়ুশাহ ও মাড়ুশাহ

এখানে সমাহিত ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে তেমন কিছু জানা নেই। আনুমানিক ৩০০ বছরের প্রাচীন এই কবর দু'টি দীর্ঘকাল থেকে সমাদর পেয়ে আসছে।

সূত্র: হেকিম হাবিবুর রহমান (২০২১)

আসুদেগানে ঢাকা, ঢাকা: ঐতিহ্য (প্রকাশন)

কবর দুটি দেখে আমার খুব ভালো লাগলো, কারণ সেগুলোকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে এবং সম্মানের সাথে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।

২৮/০৪/২০২৫

#dhakauniversitycampus


Old photos in Bangladesh

Aerial view of a unknown town. Bangladesh, (1958)

Photographer- Charles Samz

আজিমপুর গোরস্থান মসজিদ




রাজধানীর নিউমার্কেট থেকে সোজা বিজিবি তিন নম্বর গেট সংলগ্ন আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে নতুন লাইনের সরু রাস্তা দিয়ে বেশ কিছদূর এগিয়ে গেলে আজিমপুর গোরস্তান শাহী মসজিদ দেখতে পাবেন। এটিই আজিমপুর মসজিদ। এখানে অনেকবার নামাজ পড়েছি।

এলাকাবাসীর কাছে এটি আজিমপুর গোরস্তান শাহী মসজিদ হিসেবে পরিচিত।বাইরে থেকে খুব সাধারণ একটি মসজিদ মনে হলেও প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, মসজিদটি প্রায় তিনশ’ বছরের পুরনো। 

মসজিদটিতে এতবার সংস্কার ও পরিবর্তন করা হয়েছে যে, বাইরে থেকে এখন এটিকে একটি আধুনিক ইমারত বলে মনে হয়। একটি ফারসি শিলালিপি এখনও প্রধান প্রবেশপথের উপর বিদ্যমান রয়েছে। এর বর্ণনা অনুযায়ী এটি জনৈক ফয়জুল্লাহ কর্তৃক ১৭৪৬ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়েছে।

Sunday, April 27, 2025

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম

১৯৮০ দশকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারম,  জাতীয় স্টেডিয়াম ও জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্স এর একটি ছবি। Dhaka, Bangladesh.


রামপুরা সেতু

রামপুরা সেতু নির্মানে সময় লেগেছিল ১১ বছরের মত ! দুই অংশ ( রামপুরা - ডি আই টি রোড এবং বাড্ডা - গুলশান ) সংযুক্ত হতে কত বছর লাগবে কে জানে ? নিউজ প্রকাশ - ২রা , জুন , ১৯৮০ সাল । ( উল্লেখ্য ৮০ দশকে শেষ সময়েই দুই প্রান্ত যুক্ত হয়েছিল )


আগেকার দিনের ঢাকার বাসাবো ক্রিকেট এর কাছে রেল গেটের কাছে সিট দখলের প্রতিযোগিতা

তখন টিকেটে সিট নাম্বারিং শুরু হয়নি । তাই ট্রেন প্ল্যাটফোর্মে দেয়ার আগেই বাসাব'র সান্টিং ( বাসবো রেইল গেইটের ) এর কাছে মানুষ আগে থেকে সিট দখলের জন্য প্রতিযোগিতা চলছে । ছবি - ২০ শে অক্টোবর , ১৯৮০ সাল । অদূরে খিলগাঁও বাজার !

Monday, April 21, 2025

শান্তিবাগ


ও আমার আল্লাহ ! চিরচেনা যায়গাটা , পুকুরের উপরে ছিল  টিন কাঠের দুতলা স্কুল ( শান্তি বাগ কো-অপরেটিভ হাই স্কুল পরে এরশাদ হাই স্কুল আবার পরে শান্তিবাগ হাই স্কুল ) । ৭০ সালে মাত্র বেবি ক্লাসে পড়েছিলাম , ১ম হয়েছিলাম । এখানে পিছন দিকে ছিল অভিনেতা মরহুম রাজু আহমদের বাড়ি । রাস্তা সামনে পশ্চিম দিক  - পিছনে পুর্ব দিক । ডানদিকে ঝিল - পরে পুকুর - পরে ডোবা , মাথায় শহীদ বাগ - দক্ষিন দিক । যাহোক ,  ১৯৭৭-১৯৮০ সালে সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতি দিন যেতাম  এই রাস্তা দিয়ে ! ছবি - ১ম ডিসেম্বর ১৯৮০ সাল । সংবাদ ।

Monday, March 3, 2025

১৭ নং রাজার দেউরী, কোতওয়ালী, পুরান ঢাকা 🖤


১৭ নং রাজার দেউরী, কোতওয়ালী, পুরান ঢাকা 🖤 

দ্বিতল স্থাপনাটি প্রয়াত বাবলা কমিশনারের বাড়ি।


স্থানীয়দের কাছে এটা শুটিং বাড়ী নামে পরিচিত।

এখানে কিছু নাটক ও টেলিফিল্মের শুটিং হয়েছে।


ব্রিটিশ শাসন আমলের শেষ দিকে নির্মিত স্থাপনাটি বর্তমানে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল

জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবরের তত্ত্বাবধানে 

রয়েছে। ( প্রবেশ অধিকার সংরক্ষিত)

 

Thursday, February 27, 2025

ঢাকার প্রাচীনত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন


ঢাকার প্রাচীনত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন: 🌌

ঐতিহ্যগতভাবে, ঢাকা শহরের বয়স ৪০০ বছর বলে মনে করা হত। তবে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব গবেষকদের সাম্প্রতিক আবিষ্কার এই ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে দিয়েছে। তাদের গবেষণা অনুসারে, ঢাকা শহরের গোড়াপত্তন খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম থেকে দ্বিতীয় শতাব্দীর মধ্যে হয়েছিল। এর অর্থ, যিশুখ্রিষ্টের জন্মের বহু আগে থেকেই এই নগরীতে মানববসতি ছিল, যা প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের ঘটনা।

পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে  প্রত্নতাত্ত্বিক খনন: 🏚️⛏️
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল ২০১৭-১৮ সালে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ চালায়। এই খননকাজে শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছিল। তারা কারাগারের প্রধান ফটকের সম্মুখভাগ, রজনীগন্ধা ভবনের আঙিনা, কারা হাসপাতালের সম্মুখভাগ, দশ সেল এবং যমুনা ভবনের পশ্চিমাংশ- এই পাঁচটি স্থানে মোট ১১টি খননকাজ পরিচালনা করে।

আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন: ⚙️
এই খননকাজের ⛏️ ফলে, একটি প্রাচীন দুর্গের  দেয়াল, কক্ষ, নর্দমা এবং কূপের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়াও, গবেষকরা কড়ি, মুঘল আমলের ধাতব মুদ্রা, বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্র এবং পোড়ামাটির ভাস্কর্যের মতো বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কার করেন।

গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের তাৎপর্য: 🔍
এই আবিষ্কারগুলো ঢাকার ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায় উন্মোচন করে। এটি প্রমাণ করে যে, ঢাকা শহর শুধু মুঘল আমলের রাজধানী ছিল না, বরং এর ইতিহাস আরও প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ। এই গবেষণার মাধ্যমে ঢাকার প্রাচীনত্ব এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
🏚️

Monday, February 24, 2025

ঢাকার মগবাজার ইতিহাস

 


ঢাকার অজানা ইতিহাস:


দেড় হাজার বছর আগে ছিল এক প্রহরা চৌকি। স্থানীয়রা তাকে বলত ঢক্কা। ধীরে ধীরে গড়ে উঠল 'বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির' এক শহর। মোগল সুবেদার ইসলাম খাঁ ১৬১২ সালে সেই শহরকেই করলেন তার রাজধানী। সেই থেকে যাত্রা হল রাজধানী নগরী ঢাকার। কিন্তু নগরী হিসেবে ঢাকার ইতিহাস আরো পুরানো। এরপর কত ভাঙ্গা গড়া, কত হাসি কান্নার ইতিহাস।


মগদের বসতি ছিল মগবাজারে:

শ'খানেক বছর আগেও মগবাজার ছিল ঢাকা শহর থেকে 'দুই মাইল উত্তর-পূর্ব দিকে'। ১৩১৯ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত যতীন্দ্রমোহন রায়ের ঢাকার ইতিহাস বইতে মগবাজারের বিবরণ দিতে গিয়ে একথাই বলা হয়েছে। মগবাজার নামকরণ


বইতে বলা হয়েছে, 'সুবাদার ইসলাম খাঁ মোগল শাসন সময়ে আরাকান রাজের মৃত্যু হইলে তাঁহার জনৈক কর্মচারীর পুত্র তদীয় সিংহাসন হস্তগত করিতে সমর্থ হয়। এই ঘটনায় আরাকান রাজার ভ্রাতা উনবিংশতি হস্তী, চারি-পাঁচ সহস্র অনুচর ও তদীয় পরিবারবর্গসহ ভুলুয়ার ফৌজদারের শরণাপন্ন হইলে তিনি উহাকে স্থলপথে ঢাকা প্রেরণ করেন।


ইসলাম খাঁ তাহাদের সাদরে গ্রহণ করেন।... মগদিগের বসবাস হেতু এই স্থান মগবাজার আখ্যা প্রাপ্ত হইয়াছে।' নাজির হোসেনের 'কিংবদন্তির ঢাকা' বইতেও একই ধরনের বিবরণ পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন, ১৬৩৫-৩৯ সালে চট্টগ্রামে আরাকান রাজের মগ গভর্নর ছিলেন মুকুট রায়। ইনি ছিলেন আরাকান রাজার ভাইপো। মুকুট রায় এই সময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পরিবার-পরিজন ও অনুগতদের নিয়ে সুবেদার ইসলাম খাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারী মগদের এই দলটিকে ঢাকা শহরের কাছে বসতি স্থাপন করতে দেয়া হয়। এ কারণেই জায়গাটির নাম হয় মগবাজার। তবে এই ধারণা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। এ বিষয়ে তিনি নির্মল গুপ্তের মতকেই অধিক বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন। নির্মল গুপ্তের মতে, সুবাদার ইসলাম খাঁ'র সময় নয়, মগরা এখানে এসে আশ্রয় নেয় ব্রিটিশ আমলে। তিনি লিখেছেন, উনবিংশ শতকে আরাকান থেকে অনেক মগ ব্রিটিশ সরকারের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে কিং ব্রিং নামে এক মগ সর্দার জনা পঞ্চাশেক লোক নিয়ে এসে ঢাকা শহরের কাছে এক জঙ্গলাকীর্ণ স্থানে বসবাস শুরু করেন এবং সেই থেকেই এলাকাটির নাম হয় মগবাজার।


পশ্চিমে ইস্কাটন, দক্ষিণে রমনা, উত্তরে তেজগাঁও এবং পূর্ব দিকে সিদ্ধেশ্বরী-মালিবাগ এলাকা। বলতে গেলে নগরীর কেন্দ্রস্থলে এর অবস্থান। কিন্তু একশ'-সোয়াশ' বছর আগেও মগবাজার ছিল ঢাকা শহরের বাইরে শুধু তাই নয়, এলাকাটি ছিল ঘোর জঙ্গলাকীর্ণ। বাঘ, হাতি, অজগরের মতো বন্যপ্রাণী বিচরণ করত এখানে।


১৮৬৫ সালে এখানে কয়েকজন অল্পবয়স্ক লোক একসঙ্গে একটি বাঘিনীকে তাড়িয়ে দিয়ে তার তিনটি বাচ্চাকে ধরে এনেছিল বলে স্থানীয় পত্রিকায় খবর ছাপা হয়েছিল।


নাজির হোসেন তার বইয়ে মগবাজারের নাম এক সময় মগরাপাড়া ছিল বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, পাঠান আমলে এই স্থানে একটি বিশ্রামাগার ও নহবৎখানা নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রতিদিন ভোর বেলা ও সন্ধ্যার সময় নহবৎখানায় বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রসহকারে বাঁশী বাজানো হত। পথশ্রান্ত পথিক এবং পীর-ফকিরগণ এখানে বিশ্রাম নিতে পারতেন। সে আমলে এখানে একটি মসজিদ এবং তার কাছে তহবিল নামে একটি অট্টালিকা নির্মাণ করা হয়। মসজিদে যারা নামাজ পড়তে আসতেন, তহবিল নামের ভবনটিতে তাদের আপ্যায়ন করা হত। চিত্তবিনোদনেরও নানা। ব্যবস্থা ছিল এখানে।


Monday, December 30, 2024

 





ডাকাতদের মাথা কেটে ঝুলিয়ে রাখা হতো ঢাকার পাগলা সেতুতে  প্রখ্যাত শিল্পী চার্লস ড’য়লি বাংলাদেশে আসেন ১৮০৮ সালে। তিলোত্তমা ঢাকার প্রেমে পড়ে থেকে যান প্রায় ৯ বছর। তার হাতে ক্যামেরা ছিল না, পেন্সিল আর কাগজই তখন ভরসা। তা দিয়ে তিনি এঁকেছেন বুড়িগঙ্গা, ঘর-বাড়ি, নাম না জানা কোন গলি, ভাঙা সেতু অথবা লোকজন। এর মধ্যে তার আঁকা কিছু ছবি বিখ্যাত হয়ে ওঠে। পাগলা সেতু’র চিত্রটি এর মধ্যে অন্যতম। ১৮১৭ সালে চার্লস ড’য়লি পাগলা সেতুর ছবি আঁকেন। সেই সময়ে পাগালা সেতুর অবস্থা ছিল বেশ নাজুক। সেটার ওপর গাড়ি-ঘোড়া কিছুই চলতো না। তবে তখন মানুষজন ব্রিজে বসে আড্ডা দিতো। এছাড়া ব্রিজের নিচ দিয়ে নৌকাও চলতো। তারওপরে এটি ডাকাতদের মাথা কেটে ঝুলিয়ে রাখা স্থান হয়ে ওঠে।  পাগলা সেতুর ইতিহাস বহু আগের। ১৬৬২ সালে এটি নির্মিত হয় এবং ‘পাগলার পুল’ নামে অধিক পরিচিত। জানা যায়, মোগল সুবেদার মীর জুমলা তৎকালীন আরাকানি ও মগদের আক্রমণ ঠেকানো এবং দস্যুদের দমনের জন্য সোনাকান্দা, ইদরাকপুর, হাজিগঞ্জ প্রভৃতি ভাটি অঞ্চলে কয়েকটি জলজ দুর্গ নির্মাণ করেন। ওই দুর্গগুলোর সঙ্গে রাজধানী শহর ঢাকার সংযোগের জন্য পাগালু নামের স্রোতস্বিনী নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। যদিও ওই নদীর এখন কোনো অস্তিত্ব নেই।  তিনটি মজবুত ও সুঁচালু খিলান সহযোগে নির্মিত হয়েছিল পাগলা সেতু। খিলানের স্প্যান্ড্রেলে সুদৃশ্য গোলাপ ফুলের প্লাস্টার নকশা দেয়া ছিল। পুলটির চার কোনায় ছিল চারটি অষ্টকোনাকৃতির ফাঁপা টাওয়ার। টাওয়ারগুলোতে খিলানী দরজা জানালা ছিল। টাওয়েরর উপরে ছিল গম্বুজ। সেতুর নিরাপত্তা প্রহরীরা এসব টাওয়ারে অবস্থান করতেন।  ১৬৬৬ সালে ফরাসী অলংকার ব্যবসায়ী ট্যাভেরনিয়ার লিখেছেন, তিনি ওই পুলের পাশে থাকা উঁচু উঁচু থামে দস্যুদের কাটা মাথা ঝুলিয়ে রাখতে দেখেছিলেন। ঢাকা কেন্দ্রের গবেষক ড. মো. আলমগীর এক প্রবন্ধে লিখেছেন, সেখানে ডাকাতদের খুব উপদ্রব ছিল। প্রায়ই ডাকাতদের মেরে মাথা ঝুলিয়ে রাখা হতো।  পাগলা সেতুর চিহ্ন এখনও আছে। সেতুর পশ্চিম পাশের একটি টাওয়ার এখনো স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আরেকটি নদীর দিকে হেলে পড়ে জীর্ণ অবস্তায় আছে। পূর্বদিকের একটি টাওয়ার এখন মন্দিরের গর্ভগৃহ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেখানে পুরানো একটি পিপুল গাছ রয়েছে। সেতুর খিলানগুলো বহু আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে। ১৯৬০ সালেও সেতুটির অস্তিত্ব ছিল। অযত্ন-অবহেলা, দূষণ-দখলের কবলে পড়ে এটি এখন শুধুই  অতীত স্মৃতি ।

আড়ুশাহ ও মাড়ুশাহ (রহমাতুল্লাহ) এর মাজার - ওয়ার্ড নং ২১

গতকাল, ফুলার রোড ধরে ব্রিটিশ কাউন্সিল পেরিয়ে যখন জগন্নাথ হলের দিকে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ আমার মনে হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক কোয়ার্টারের ভেত...