গতকাল, ফুলার রোড ধরে ব্রিটিশ কাউন্সিল পেরিয়ে যখন জগন্নাথ হলের দিকে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ আমার মনে হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক কোয়ার্টারের ভেতরে দুটি পুরনো কবর রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই আমি ভেতরে প্রবেশ করি।
সেখানে একটি মাটির ঢিবির উপর "আড়ুশাহ ও মাড়ুশাহ (রহমাতুল্লাহ) এর মাজার - ওয়ার্ড নং ২১" শিরোনামে দুটি কবর দেখতে পেলাম। আমার ছোটবেলার স্মৃতি মনে পড়ে, যখন এই মাজার দুটি ঘন জঙ্গলের মাঝে নীরব দাঁড়িয়ে ছিল। আগে এখানে একটি মাটির তৈরি ছোট মসজিদ ছিল, এবং আমাদের এক প্রতিবেশী সেই মসজিদ ও মাজারগুলোর তত্ত্বাবধান করতেন।
পরবর্তীতে, বঙ্গ বিভাগের সময় সরকার এই পুরো এলাকাটি অধিগ্রহণ করে নেয়। শোনা যায়, সেই মসজিদ ও সংলগ্ন জমি জনৈক ব্যক্তি মুতাওয়াল্লী সেজে কিছু অর্থের বিনিময়ে সরকারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। বর্তমানে সেখানে শুধু মাজার দুটিই অবশিষ্ট আছে। এখন সেই স্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশাল ভবন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, যা মুসলিম হলের প্রভোস্টের বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মাজার পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য একটি সরু পথ বিদ্যমান। কবর দুটি বেশ ভালোভাবে সংরক্ষিত আছে। তবে, সেখানে সমাহিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি। তবুও, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এই কবরগুলো বহু প্রাচীন। ঢাকার মানুষজন এই স্থানটিকে যথেষ্ট সম্মান করে।
আমি "আসুদেগানে ঢাকা" নামক গ্রন্থে এই কবরগুলোর উল্লেখ খুঁজে পেয়েছি, যা হাকিম হাবিবুর রহমান কর্তৃক রচিত এবং মাওলানা আবুল কাজমী কর্তৃক অনূদিত ও ড. মোমতাজ উদ্দিন আহাম্মদ কর্তৃক সম্পাদিত।
এছাড়াও, কবর দুটির স্মৃতিফলকে নিম্নলিখিত লেখাটি উদ্ধৃত দেখলাম:
আড়ুশাহ ও মাড়ুশাহ
এখানে সমাহিত ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে তেমন কিছু জানা নেই। আনুমানিক ৩০০ বছরের প্রাচীন এই কবর দু'টি দীর্ঘকাল থেকে সমাদর পেয়ে আসছে।
সূত্র: হেকিম হাবিবুর রহমান (২০২১)
আসুদেগানে ঢাকা, ঢাকা: ঐতিহ্য (প্রকাশন)
কবর দুটি দেখে আমার খুব ভালো লাগলো, কারণ সেগুলোকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে এবং সম্মানের সাথে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।
২৮/০৪/২০২৫
#dhakauniversitycampus













