Monday, June 8, 2026
Wednesday, April 30, 2025
আড়ুশাহ ও মাড়ুশাহ (রহমাতুল্লাহ) এর মাজার - ওয়ার্ড নং ২১
গতকাল, ফুলার রোড ধরে ব্রিটিশ কাউন্সিল পেরিয়ে যখন জগন্নাথ হলের দিকে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ আমার মনে হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক কোয়ার্টারের ভেতরে দুটি পুরনো কবর রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই আমি ভেতরে প্রবেশ করি।
সেখানে একটি মাটির ঢিবির উপর "আড়ুশাহ ও মাড়ুশাহ (রহমাতুল্লাহ) এর মাজার - ওয়ার্ড নং ২১" শিরোনামে দুটি কবর দেখতে পেলাম। আমার ছোটবেলার স্মৃতি মনে পড়ে, যখন এই মাজার দুটি ঘন জঙ্গলের মাঝে নীরব দাঁড়িয়ে ছিল। আগে এখানে একটি মাটির তৈরি ছোট মসজিদ ছিল, এবং আমাদের এক প্রতিবেশী সেই মসজিদ ও মাজারগুলোর তত্ত্বাবধান করতেন।
পরবর্তীতে, বঙ্গ বিভাগের সময় সরকার এই পুরো এলাকাটি অধিগ্রহণ করে নেয়। শোনা যায়, সেই মসজিদ ও সংলগ্ন জমি জনৈক ব্যক্তি মুতাওয়াল্লী সেজে কিছু অর্থের বিনিময়ে সরকারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। বর্তমানে সেখানে শুধু মাজার দুটিই অবশিষ্ট আছে। এখন সেই স্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশাল ভবন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, যা মুসলিম হলের প্রভোস্টের বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মাজার পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য একটি সরু পথ বিদ্যমান। কবর দুটি বেশ ভালোভাবে সংরক্ষিত আছে। তবে, সেখানে সমাহিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি। তবুও, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এই কবরগুলো বহু প্রাচীন। ঢাকার মানুষজন এই স্থানটিকে যথেষ্ট সম্মান করে।
আমি "আসুদেগানে ঢাকা" নামক গ্রন্থে এই কবরগুলোর উল্লেখ খুঁজে পেয়েছি, যা হাকিম হাবিবুর রহমান কর্তৃক রচিত এবং মাওলানা আবুল কাজমী কর্তৃক অনূদিত ও ড. মোমতাজ উদ্দিন আহাম্মদ কর্তৃক সম্পাদিত।
এছাড়াও, কবর দুটির স্মৃতিফলকে নিম্নলিখিত লেখাটি উদ্ধৃত দেখলাম:
আড়ুশাহ ও মাড়ুশাহ
এখানে সমাহিত ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে তেমন কিছু জানা নেই। আনুমানিক ৩০০ বছরের প্রাচীন এই কবর দু'টি দীর্ঘকাল থেকে সমাদর পেয়ে আসছে।
সূত্র: হেকিম হাবিবুর রহমান (২০২১)
আসুদেগানে ঢাকা, ঢাকা: ঐতিহ্য (প্রকাশন)
কবর দুটি দেখে আমার খুব ভালো লাগলো, কারণ সেগুলোকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে এবং সম্মানের সাথে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।
২৮/০৪/২০২৫
#dhakauniversitycampus
Old photos in Bangladesh
আজিমপুর গোরস্থান মসজিদ
Sunday, April 27, 2025
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম
রামপুরা সেতু
আগেকার দিনের ঢাকার বাসাবো ক্রিকেট এর কাছে রেল গেটের কাছে সিট দখলের প্রতিযোগিতা
Monday, April 21, 2025
শান্তিবাগ
ও আমার আল্লাহ ! চিরচেনা যায়গাটা , পুকুরের উপরে ছিল টিন কাঠের দুতলা স্কুল ( শান্তি বাগ কো-অপরেটিভ হাই স্কুল পরে এরশাদ হাই স্কুল আবার পরে শান্তিবাগ হাই স্কুল ) । ৭০ সালে মাত্র বেবি ক্লাসে পড়েছিলাম , ১ম হয়েছিলাম । এখানে পিছন দিকে ছিল অভিনেতা মরহুম রাজু আহমদের বাড়ি । রাস্তা সামনে পশ্চিম দিক - পিছনে পুর্ব দিক । ডানদিকে ঝিল - পরে পুকুর - পরে ডোবা , মাথায় শহীদ বাগ - দক্ষিন দিক । যাহোক , ১৯৭৭-১৯৮০ সালে সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতি দিন যেতাম এই রাস্তা দিয়ে ! ছবি - ১ম ডিসেম্বর ১৯৮০ সাল । সংবাদ ।
Monday, March 3, 2025
১৭ নং রাজার দেউরী, কোতওয়ালী, পুরান ঢাকা 🖤
১৭ নং রাজার দেউরী, কোতওয়ালী, পুরান ঢাকা 🖤
দ্বিতল স্থাপনাটি প্রয়াত বাবলা কমিশনারের বাড়ি।
স্থানীয়দের কাছে এটা শুটিং বাড়ী নামে পরিচিত।
এখানে কিছু নাটক ও টেলিফিল্মের শুটিং হয়েছে।
ব্রিটিশ শাসন আমলের শেষ দিকে নির্মিত স্থাপনাটি বর্তমানে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল
জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবরের তত্ত্বাবধানে
রয়েছে। ( প্রবেশ অধিকার সংরক্ষিত)
Thursday, February 27, 2025
ঢাকার প্রাচীনত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন
Monday, February 24, 2025
ঢাকার মগবাজার ইতিহাস
ঢাকার অজানা ইতিহাস:
দেড় হাজার বছর আগে ছিল এক প্রহরা চৌকি। স্থানীয়রা তাকে বলত ঢক্কা। ধীরে ধীরে গড়ে উঠল 'বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির' এক শহর। মোগল সুবেদার ইসলাম খাঁ ১৬১২ সালে সেই শহরকেই করলেন তার রাজধানী। সেই থেকে যাত্রা হল রাজধানী নগরী ঢাকার। কিন্তু নগরী হিসেবে ঢাকার ইতিহাস আরো পুরানো। এরপর কত ভাঙ্গা গড়া, কত হাসি কান্নার ইতিহাস।
মগদের বসতি ছিল মগবাজারে:
শ'খানেক বছর আগেও মগবাজার ছিল ঢাকা শহর থেকে 'দুই মাইল উত্তর-পূর্ব দিকে'। ১৩১৯ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত যতীন্দ্রমোহন রায়ের ঢাকার ইতিহাস বইতে মগবাজারের বিবরণ দিতে গিয়ে একথাই বলা হয়েছে। মগবাজার নামকরণ
বইতে বলা হয়েছে, 'সুবাদার ইসলাম খাঁ মোগল শাসন সময়ে আরাকান রাজের মৃত্যু হইলে তাঁহার জনৈক কর্মচারীর পুত্র তদীয় সিংহাসন হস্তগত করিতে সমর্থ হয়। এই ঘটনায় আরাকান রাজার ভ্রাতা উনবিংশতি হস্তী, চারি-পাঁচ সহস্র অনুচর ও তদীয় পরিবারবর্গসহ ভুলুয়ার ফৌজদারের শরণাপন্ন হইলে তিনি উহাকে স্থলপথে ঢাকা প্রেরণ করেন।
ইসলাম খাঁ তাহাদের সাদরে গ্রহণ করেন।... মগদিগের বসবাস হেতু এই স্থান মগবাজার আখ্যা প্রাপ্ত হইয়াছে।' নাজির হোসেনের 'কিংবদন্তির ঢাকা' বইতেও একই ধরনের বিবরণ পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন, ১৬৩৫-৩৯ সালে চট্টগ্রামে আরাকান রাজের মগ গভর্নর ছিলেন মুকুট রায়। ইনি ছিলেন আরাকান রাজার ভাইপো। মুকুট রায় এই সময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পরিবার-পরিজন ও অনুগতদের নিয়ে সুবেদার ইসলাম খাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারী মগদের এই দলটিকে ঢাকা শহরের কাছে বসতি স্থাপন করতে দেয়া হয়। এ কারণেই জায়গাটির নাম হয় মগবাজার। তবে এই ধারণা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। এ বিষয়ে তিনি নির্মল গুপ্তের মতকেই অধিক বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন। নির্মল গুপ্তের মতে, সুবাদার ইসলাম খাঁ'র সময় নয়, মগরা এখানে এসে আশ্রয় নেয় ব্রিটিশ আমলে। তিনি লিখেছেন, উনবিংশ শতকে আরাকান থেকে অনেক মগ ব্রিটিশ সরকারের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে কিং ব্রিং নামে এক মগ সর্দার জনা পঞ্চাশেক লোক নিয়ে এসে ঢাকা শহরের কাছে এক জঙ্গলাকীর্ণ স্থানে বসবাস শুরু করেন এবং সেই থেকেই এলাকাটির নাম হয় মগবাজার।
পশ্চিমে ইস্কাটন, দক্ষিণে রমনা, উত্তরে তেজগাঁও এবং পূর্ব দিকে সিদ্ধেশ্বরী-মালিবাগ এলাকা। বলতে গেলে নগরীর কেন্দ্রস্থলে এর অবস্থান। কিন্তু একশ'-সোয়াশ' বছর আগেও মগবাজার ছিল ঢাকা শহরের বাইরে শুধু তাই নয়, এলাকাটি ছিল ঘোর জঙ্গলাকীর্ণ। বাঘ, হাতি, অজগরের মতো বন্যপ্রাণী বিচরণ করত এখানে।
১৮৬৫ সালে এখানে কয়েকজন অল্পবয়স্ক লোক একসঙ্গে একটি বাঘিনীকে তাড়িয়ে দিয়ে তার তিনটি বাচ্চাকে ধরে এনেছিল বলে স্থানীয় পত্রিকায় খবর ছাপা হয়েছিল।
নাজির হোসেন তার বইয়ে মগবাজারের নাম এক সময় মগরাপাড়া ছিল বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, পাঠান আমলে এই স্থানে একটি বিশ্রামাগার ও নহবৎখানা নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রতিদিন ভোর বেলা ও সন্ধ্যার সময় নহবৎখানায় বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রসহকারে বাঁশী বাজানো হত। পথশ্রান্ত পথিক এবং পীর-ফকিরগণ এখানে বিশ্রাম নিতে পারতেন। সে আমলে এখানে একটি মসজিদ এবং তার কাছে তহবিল নামে একটি অট্টালিকা নির্মাণ করা হয়। মসজিদে যারা নামাজ পড়তে আসতেন, তহবিল নামের ভবনটিতে তাদের আপ্যায়ন করা হত। চিত্তবিনোদনেরও নানা। ব্যবস্থা ছিল এখানে।
Monday, December 30, 2024
ডাকাতদের মাথা কেটে ঝুলিয়ে রাখা হতো ঢাকার পাগলা সেতুতে প্রখ্যাত শিল্পী চার্লস ড’য়লি বাংলাদেশে আসেন ১৮০৮ সালে। তিলোত্তমা ঢাকার প্রেমে পড়ে থেকে যান প্রায় ৯ বছর। তার হাতে ক্যামেরা ছিল না, পেন্সিল আর কাগজই তখন ভরসা। তা দিয়ে তিনি এঁকেছেন বুড়িগঙ্গা, ঘর-বাড়ি, নাম না জানা কোন গলি, ভাঙা সেতু অথবা লোকজন। এর মধ্যে তার আঁকা কিছু ছবি বিখ্যাত হয়ে ওঠে। পাগলা সেতু’র চিত্রটি এর মধ্যে অন্যতম। ১৮১৭ সালে চার্লস ড’য়লি পাগলা সেতুর ছবি আঁকেন। সেই সময়ে পাগালা সেতুর অবস্থা ছিল বেশ নাজুক। সেটার ওপর গাড়ি-ঘোড়া কিছুই চলতো না। তবে তখন মানুষজন ব্রিজে বসে আড্ডা দিতো। এছাড়া ব্রিজের নিচ দিয়ে নৌকাও চলতো। তারওপরে এটি ডাকাতদের মাথা কেটে ঝুলিয়ে রাখা স্থান হয়ে ওঠে। পাগলা সেতুর ইতিহাস বহু আগের। ১৬৬২ সালে এটি নির্মিত হয় এবং ‘পাগলার পুল’ নামে অধিক পরিচিত। জানা যায়, মোগল সুবেদার মীর জুমলা তৎকালীন আরাকানি ও মগদের আক্রমণ ঠেকানো এবং দস্যুদের দমনের জন্য সোনাকান্দা, ইদরাকপুর, হাজিগঞ্জ প্রভৃতি ভাটি অঞ্চলে কয়েকটি জলজ দুর্গ নির্মাণ করেন। ওই দুর্গগুলোর সঙ্গে রাজধানী শহর ঢাকার সংযোগের জন্য পাগালু নামের স্রোতস্বিনী নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। যদিও ওই নদীর এখন কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনটি মজবুত ও সুঁচালু খিলান সহযোগে নির্মিত হয়েছিল পাগলা সেতু। খিলানের স্প্যান্ড্রেলে সুদৃশ্য গোলাপ ফুলের প্লাস্টার নকশা দেয়া ছিল। পুলটির চার কোনায় ছিল চারটি অষ্টকোনাকৃতির ফাঁপা টাওয়ার। টাওয়ারগুলোতে খিলানী দরজা জানালা ছিল। টাওয়েরর উপরে ছিল গম্বুজ। সেতুর নিরাপত্তা প্রহরীরা এসব টাওয়ারে অবস্থান করতেন। ১৬৬৬ সালে ফরাসী অলংকার ব্যবসায়ী ট্যাভেরনিয়ার লিখেছেন, তিনি ওই পুলের পাশে থাকা উঁচু উঁচু থামে দস্যুদের কাটা মাথা ঝুলিয়ে রাখতে দেখেছিলেন। ঢাকা কেন্দ্রের গবেষক ড. মো. আলমগীর এক প্রবন্ধে লিখেছেন, সেখানে ডাকাতদের খুব উপদ্রব ছিল। প্রায়ই ডাকাতদের মেরে মাথা ঝুলিয়ে রাখা হতো। পাগলা সেতুর চিহ্ন এখনও আছে। সেতুর পশ্চিম পাশের একটি টাওয়ার এখনো স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আরেকটি নদীর দিকে হেলে পড়ে জীর্ণ অবস্তায় আছে। পূর্বদিকের একটি টাওয়ার এখন মন্দিরের গর্ভগৃহ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেখানে পুরানো একটি পিপুল গাছ রয়েছে। সেতুর খিলানগুলো বহু আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে। ১৯৬০ সালেও সেতুটির অস্তিত্ব ছিল। অযত্ন-অবহেলা, দূষণ-দখলের কবলে পড়ে এটি এখন শুধুই অতীত স্মৃতি ।
Friday, December 13, 2024
Thursday, November 21, 2024
পাগলার পুল
Thursday, November 14, 2024
রাজমনি সিনেমা হল
রাজমনি সিনেমা হল:
বাংলাদেশের একটি অধুনালুপ্ত চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহ ------
রাজমনি - সিনেমা হল নামে পরিচিত,ঢাকার অন্যতম প্রেক্ষাগৃহটি কাকরাইলে ভি.আই.পি সড়কের পাশে অবস্থিত। মুক্তিযোদ্ধা আহসানুল্লাহ মনি ১৯৮২ সালে কাকরাইলে চব্বিশ কাঠা জমির উপর রাজমনি প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করেছিলেন। একই মালিকানায় "রাজমনির" পাশে "রাজিয়া" নামে আরেকটি প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করা হয়েছিল। চারশত আসনের "রাজিয়া" প্রেক্ষাগৃহটি "রাজমনি" অপেক্ষা আয়তনে ছোট ছিল। প্রেক্ষাগৃহ ছাড়াও এই ভবনে সঙ্গীত ও শব্দ ধারণ স্টুডিও,চিত্র ধারণের স্থান,ডাবিং স্টুডিও,সম্পাদনা প্যানেল ছিল। চলচ্চিত্র ব্যবসায় মন্দা ও ক্রমাগত লোকসানের কারণে প্রেক্ষাগৃহটি অক্টোবর ২০১৯ - এ বন্ধ করে বাণিজ্যিক ভবনে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হয়।
৩ মার্চ ১৯৮৩ সালে এক হাজার একশত পঞ্চাশ আসনের এই প্রেক্ষাগৃহ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর জন্য উদ্বোধন করা হয়। কামাল আহমেদ পরিচালিত "লালু ভুলু" ছায়াছবি এই প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত প্রথম চলচ্চিত্র। ১৯৮৪ সালে এই প্রেক্ষাগৃহের ভবনে চল্লিশটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ছিল। ফলে এই প্রেক্ষাগৃহকে ঘিরে আশির দশকে কাকরাইল এলাকাটি "ফিল্মপাড়া" নামে পরিচিতি পায়। নব্বই দশকে এই প্রেক্ষাগৃহটি সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করেছে। উদ্বোধনের ছত্রিশ বছর পর ১১ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে রাজমনি ও রাজিয়া প্রেক্ষাগৃহ দুইটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বন্ধ হওয়ার আগে এই প্রেক্ষাগৃহে "নোলক" ছায়াছবি প্রদর্শিত হয়।
সে সময় রাজমনি সিনেমা হলের মালিক এর পক্ষে থেকে বলা হয়েছিল প্রেক্ষাগৃহ ভেঙে এই স্থানে "রাজমনি টাওয়ার" নামে একটি উনিশ হতে বাইশ তলা বহুমুখী বাণিজ্যিক ভবন গড়ে তোলা হবে এবং সেই বাণিজ্যিক ভবনে ভূগর্ভে গাড়ির রাখার ব্যবস্থা,চারতলা পর্যন্ত বিপণিবিতান এবং অবশিষ্ট তলাসমূহে বিভিন্ন দপ্তরের কাছে ভাড়া দেওয়ার মত স্থাপনা তৈরি করা হবে। নতুন করে আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণের পরিকল্পনা রাখা হয়নি।
বাংলাদেশের "ফিল্মপাড়া" বলতে এখনো কাকরাইল এলাকাকে বোঝায়। বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র যাঁরা বানান বা ছবির ব্যবসার সঙ্গে যাঁরা জড়িত,তাঁদের সবার গন্তব্য কাকরাইল। এখানে এই প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে ওঠার পেছনে ছিল প্রেক্ষাগৃহ - রাজমণি।
স্বাধীনতার আগে ঢাকাই ছবির ব্যবসা মূলত ছিল ইসলামপুর,ওয়াইজঘাট ও নবাবপুরকে ঘিরে। একসময় ছবি ব্যবসার যাবতীয় কার্যক্রম চলে আসে গুলিস্তানে। আশির দশকের আগেও ঢাকার "ফিল্মপাড়া" ছিল গুলিস্তান কেন্দ্রিক এর পর তা কাকরাইলে সরে আসে।
বাংলাদেশে সিনেমা ব্যবসায় ধস নামার কারণে ঢাকার অধিকাংশ সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। হাতে গোনা কয়েকটি হল টিকে থাকলেও তা আগামীতে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অনেক স্থানে ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল গুলো ভেঙ্গে ফেলার চিন্তা করছেন মালিকরা।।
কার্টেসি – BFI
Sunday, November 3, 2024
নীলক্ষেতের রেললাইন এবং ট্রেন- ১ অক্টোবর ১৯৬৪😊
রেললাইনটি শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সীমানা ঘেষে ফুলবাড়িয়া পর্যন্ত যেতো। কিন্তু ১৯৬৮ সালে কমলাপুর ষ্টেশন চালু হবার পর ফুলবাড়িয়া ষ্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ১৯৭১ সালে রেল লাইনও তুলে ফেলা হয়। বলা হয়ে থাকে তখনকার এসএম হল আর জহু হলের ছাত্রদের ট্রেনের হুইসেলে ঘুম ভাংতো।
ছবি ক্রেডিটঃ দুলক আহমেদ
ঐতিহ্যবাহী বিউটি বোর্ডিং
ঐতিহ্যবাহী বিউটি বোর্ডিং
পুরান ঢাকার বাংলা বাজার ১নং শ্রীশদাস লেনে অবস্থিত একটি দোতলা পুরাতন বাড়ি যার সাথে বাঙালির শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাস জড়িত এবং বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির গুণী মানুষদের আড্ডার একটি কেন্দ্রস্থল, বুড়িগঙ্গা নদী থেকে বাংলাবাজার, হাজির বিরিয়ানি থেকে চকবাজার- পুরান ঢাকা মানে বাঙালির শত শত বছরের এক কালীক-আখ্যান। পুরান ঢাকার বিউটি বোর্ডিং সেই আখ্যানেরই এক অজর, অক্ষয় কীর্তির নাম। যে বোর্ডিংয়ের আড্ডাগুলো পঞ্চাশ, ষাট, সত্তর, আশির দশকে আমাদেরকে শিল্পের নিগুঢ় চেতনায় সমৃদ্ধ করে গেছে। যেখানে রচিত হয়েছে অজস্র কালজয়ী কবিতা, উপন্যাস, গল্প, চলচ্চিত্র কিংবা অন্যান্য শিল্পকর্ম। কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, গীতিকার, সুরকার, অভিনেতা, সাংবাদিক, রাজনীতিক, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব আর জাদুশিল্পীদের পদচারণায় মুখরিত থাকত সবসময় জায়গাটি।
সাতচল্লিশের দেশভাগের পূর্বে ঢাকার নিঃসন্তান এক জমিদার সুধীর চন্দ্র দাসের জমিদারবাড়ির ভবনে সুনীল কুমার মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় বের হতো 'সোনার বাংলা' নামের সাপ্তাহিক পত্রিকা, সাথে গড়ে ওঠেছিল সেটার ছাপাখানাও। মূলত তখন থেকেই ঐ ভবনটি হয়ে ওঠে শিল্প-সাহিত্যের মানুষদের আনাগোনায় মুখর। কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কবিতাটিও ছাপা হয় সেই পত্রিকায়। দেশভাগের পর 'সোনার বাংলা' কার্যালয় স্থানান্তর হয় কলকাতায়, জমিদার সুধীর চন্দ্র দাসও চলে যান ভারতে। দুই বছর খালি পড়ে থাকে ভবনটি। ১৯৪৯ সালে সেটি ভাড়া নেন মুন্সিগঞ্জের দুই সহোদর নলিনী মোহন সাহা ও প্রহ্লাদ চন্দ্র সাহা।
নলিনী মোহন সাহার বড় মেয়ের নাম ছিল বিউটি। তার নামেই তারা গড়ে তোলেন বিউটি বোর্ডিং, শুরুতে ছোট আকারে ব্যবসা শুরু করেন, একসময় চাহিদা বাড়তে থাকলে বড় করার চিন্তা থেকে জমিসহ ভবনটি কিনে নেন দুই ভাই। ক্রমেই ব্যবসা হয়ে ওঠে জমজমাট। সেই সাথে আবারও শুরু হয় সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের মানুষের বিচরণ।
দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের কেন্দ্র হয়ে ওঠে বাংলাবাজার। সে সূত্রে কবি-সাহিত্যিকদেরও প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়। বাংলাবাজারের পাশেই শ্রীশ দাস লেনের ১ নাম্বার বাড়িটিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে সাহিত্যচক্রের সুনিপুণ এক ঠিকানা।
দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে এই ঐতিহাসিক স্থানে 'সোনার বাংলা' কার্যালয়ে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও পল্লীকবি জসীমউদদীন।
এখান থেকেই ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয় কবিতাপত্র ‘কবিকণ্ঠ’, আহমদ ছফার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল ‘স্বদেশ’। আরো বেশ কয়েকটি সাহিত্য সাময়িকীও নানা সময়ে প্রকাশিত হয়েছে।
এখানে বসেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলে খ্যাতিমান পরিচালক আব্দুল জব্বার খান। বলা হয়, চিত্রনাট্যের কিছু অংশও এখানে বসে লিখেছিলেন তিনি। সুরকার সমর দাস অনেক বিখ্যাত গানের কথায় সুর বসিয়েছেন এখানেই আড্ডা দেওয়ার ফাঁকেই।
একাত্তরের পঁচিশে মার্চ রাতে বাংলার বুকে এক পাশবিক গণহত্যা শুরু করে পাকিস্তানি হানাদারেরা। তিনদিনের মাথায় ২৮ মার্চ অভিযান চালায় বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক আঁতুড়ঘর বিউটি বোর্ডিংয়েও। ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ১৭ জনকে।
নিহতদের মধ্যে বোর্ডিংয়ের ম্যানেজার ও অন্যান্য কর্মীর পাশাপাশি ছিলেন মালিক প্রহ্লাদ চন্দ্র সাহা স্বয়ং। প্রহ্লাদ চন্দ্র সাহার পরিবার চলে যান ভারতে। রাজাকারদের দখলে থাকায় যুদ্ধের সময় খালিই পড়ে থাকে বোর্ডিংটি।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে প্রহ্লাদ চন্দ্র সাহার স্ত্রী প্রতিভা সাহা দুই পুত্র সমর সাহা ও তারক সাহাকে নিয়ে দেশে ফিরে আসেন, আবারও শুরু করেন বোর্ডিং ব্যবসা।
স্বাধীনতার পর থেকে হাল ধরে আসা প্রহ্লাদ সাহার ছেলে তারক সাহা প্রয়াত হলে তার উত্তরসূরী সমর সাহা ও বিজয় সাহা বোর্ডিংটি দেখাশোনা করেন।
কৃতজ্ঞতা @M Kaiser Hussain
Saturday, November 2, 2024
ঐতিহাসিক শায়েস্তা খাঁ জামে মসজিদ।
ঐতিহাসিক শায়েস্তা খাঁ জামে মসজিদ।
কাটরা পাকুড়তলী,মিটফোর্ড,পুরান ঢাকা।
নির্মাতা : নবাব শায়েস্তা খাঁ
স্থাপিত : ১৬৬৪ ইং
পুরান ঢাকার একটি অন্যতম প্রাচীন মসজিদ।


























