Thursday, February 27, 2025

ঢাকার প্রাচীনত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন


ঢাকার প্রাচীনত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন: 🌌

ঐতিহ্যগতভাবে, ঢাকা শহরের বয়স ৪০০ বছর বলে মনে করা হত। তবে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব গবেষকদের সাম্প্রতিক আবিষ্কার এই ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে দিয়েছে। তাদের গবেষণা অনুসারে, ঢাকা শহরের গোড়াপত্তন খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম থেকে দ্বিতীয় শতাব্দীর মধ্যে হয়েছিল। এর অর্থ, যিশুখ্রিষ্টের জন্মের বহু আগে থেকেই এই নগরীতে মানববসতি ছিল, যা প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের ঘটনা।

পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে  প্রত্নতাত্ত্বিক খনন: 🏚️⛏️
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল ২০১৭-১৮ সালে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ চালায়। এই খননকাজে শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছিল। তারা কারাগারের প্রধান ফটকের সম্মুখভাগ, রজনীগন্ধা ভবনের আঙিনা, কারা হাসপাতালের সম্মুখভাগ, দশ সেল এবং যমুনা ভবনের পশ্চিমাংশ- এই পাঁচটি স্থানে মোট ১১টি খননকাজ পরিচালনা করে।

আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন: ⚙️
এই খননকাজের ⛏️ ফলে, একটি প্রাচীন দুর্গের  দেয়াল, কক্ষ, নর্দমা এবং কূপের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়াও, গবেষকরা কড়ি, মুঘল আমলের ধাতব মুদ্রা, বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্র এবং পোড়ামাটির ভাস্কর্যের মতো বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কার করেন।

গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের তাৎপর্য: 🔍
এই আবিষ্কারগুলো ঢাকার ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায় উন্মোচন করে। এটি প্রমাণ করে যে, ঢাকা শহর শুধু মুঘল আমলের রাজধানী ছিল না, বরং এর ইতিহাস আরও প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ। এই গবেষণার মাধ্যমে ঢাকার প্রাচীনত্ব এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
🏚️

Monday, February 24, 2025

ঢাকার মগবাজার ইতিহাস

 


ঢাকার অজানা ইতিহাস:


দেড় হাজার বছর আগে ছিল এক প্রহরা চৌকি। স্থানীয়রা তাকে বলত ঢক্কা। ধীরে ধীরে গড়ে উঠল 'বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির' এক শহর। মোগল সুবেদার ইসলাম খাঁ ১৬১২ সালে সেই শহরকেই করলেন তার রাজধানী। সেই থেকে যাত্রা হল রাজধানী নগরী ঢাকার। কিন্তু নগরী হিসেবে ঢাকার ইতিহাস আরো পুরানো। এরপর কত ভাঙ্গা গড়া, কত হাসি কান্নার ইতিহাস।


মগদের বসতি ছিল মগবাজারে:

শ'খানেক বছর আগেও মগবাজার ছিল ঢাকা শহর থেকে 'দুই মাইল উত্তর-পূর্ব দিকে'। ১৩১৯ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত যতীন্দ্রমোহন রায়ের ঢাকার ইতিহাস বইতে মগবাজারের বিবরণ দিতে গিয়ে একথাই বলা হয়েছে। মগবাজার নামকরণ


বইতে বলা হয়েছে, 'সুবাদার ইসলাম খাঁ মোগল শাসন সময়ে আরাকান রাজের মৃত্যু হইলে তাঁহার জনৈক কর্মচারীর পুত্র তদীয় সিংহাসন হস্তগত করিতে সমর্থ হয়। এই ঘটনায় আরাকান রাজার ভ্রাতা উনবিংশতি হস্তী, চারি-পাঁচ সহস্র অনুচর ও তদীয় পরিবারবর্গসহ ভুলুয়ার ফৌজদারের শরণাপন্ন হইলে তিনি উহাকে স্থলপথে ঢাকা প্রেরণ করেন।


ইসলাম খাঁ তাহাদের সাদরে গ্রহণ করেন।... মগদিগের বসবাস হেতু এই স্থান মগবাজার আখ্যা প্রাপ্ত হইয়াছে।' নাজির হোসেনের 'কিংবদন্তির ঢাকা' বইতেও একই ধরনের বিবরণ পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন, ১৬৩৫-৩৯ সালে চট্টগ্রামে আরাকান রাজের মগ গভর্নর ছিলেন মুকুট রায়। ইনি ছিলেন আরাকান রাজার ভাইপো। মুকুট রায় এই সময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পরিবার-পরিজন ও অনুগতদের নিয়ে সুবেদার ইসলাম খাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারী মগদের এই দলটিকে ঢাকা শহরের কাছে বসতি স্থাপন করতে দেয়া হয়। এ কারণেই জায়গাটির নাম হয় মগবাজার। তবে এই ধারণা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। এ বিষয়ে তিনি নির্মল গুপ্তের মতকেই অধিক বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন। নির্মল গুপ্তের মতে, সুবাদার ইসলাম খাঁ'র সময় নয়, মগরা এখানে এসে আশ্রয় নেয় ব্রিটিশ আমলে। তিনি লিখেছেন, উনবিংশ শতকে আরাকান থেকে অনেক মগ ব্রিটিশ সরকারের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে কিং ব্রিং নামে এক মগ সর্দার জনা পঞ্চাশেক লোক নিয়ে এসে ঢাকা শহরের কাছে এক জঙ্গলাকীর্ণ স্থানে বসবাস শুরু করেন এবং সেই থেকেই এলাকাটির নাম হয় মগবাজার।


পশ্চিমে ইস্কাটন, দক্ষিণে রমনা, উত্তরে তেজগাঁও এবং পূর্ব দিকে সিদ্ধেশ্বরী-মালিবাগ এলাকা। বলতে গেলে নগরীর কেন্দ্রস্থলে এর অবস্থান। কিন্তু একশ'-সোয়াশ' বছর আগেও মগবাজার ছিল ঢাকা শহরের বাইরে শুধু তাই নয়, এলাকাটি ছিল ঘোর জঙ্গলাকীর্ণ। বাঘ, হাতি, অজগরের মতো বন্যপ্রাণী বিচরণ করত এখানে।


১৮৬৫ সালে এখানে কয়েকজন অল্পবয়স্ক লোক একসঙ্গে একটি বাঘিনীকে তাড়িয়ে দিয়ে তার তিনটি বাচ্চাকে ধরে এনেছিল বলে স্থানীয় পত্রিকায় খবর ছাপা হয়েছিল।


নাজির হোসেন তার বইয়ে মগবাজারের নাম এক সময় মগরাপাড়া ছিল বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, পাঠান আমলে এই স্থানে একটি বিশ্রামাগার ও নহবৎখানা নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রতিদিন ভোর বেলা ও সন্ধ্যার সময় নহবৎখানায় বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রসহকারে বাঁশী বাজানো হত। পথশ্রান্ত পথিক এবং পীর-ফকিরগণ এখানে বিশ্রাম নিতে পারতেন। সে আমলে এখানে একটি মসজিদ এবং তার কাছে তহবিল নামে একটি অট্টালিকা নির্মাণ করা হয়। মসজিদে যারা নামাজ পড়তে আসতেন, তহবিল নামের ভবনটিতে তাদের আপ্যায়ন করা হত। চিত্তবিনোদনেরও নানা। ব্যবস্থা ছিল এখানে।


আড়ুশাহ ও মাড়ুশাহ (রহমাতুল্লাহ) এর মাজার - ওয়ার্ড নং ২১

গতকাল, ফুলার রোড ধরে ব্রিটিশ কাউন্সিল পেরিয়ে যখন জগন্নাথ হলের দিকে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ আমার মনে হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক কোয়ার্টারের ভেত...